সাভার প্রতিনিধি
আধুনিক ঢাকার সম্প্রসারণ কেবল পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ, পশ্চিমাঞ্চল অবহেলিত। সাভারে ডিওএইচএস প্রতিষ্ঠার পর, সেই অভিযোগ এখন কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে। ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলে আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখায় সশস্ত্রবাহিনী। সাভারের স্বপ্নের ঠিকানা ডিওএইচএস তারা-ই প্রতিষ্ঠা করে। সাভার ডিওএইচএস সেজন্য ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলের আভিজাত্যের প্রতীক, সবেধন নীলমণি।
ডিওএইচএস মানেই নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার এক স্বপ্নের আবাসন। আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স ও সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সিভিল অফিসারগণের মধ্যে সৌভাগ্যের অধিকারীরা ডিওএইচএসে প্লটের মালিক হতে পারেন। সাভার ডিওএইচএস হলো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক স্বপ্নের আবাসন ঠিকানা, যাকে নীলাভ স্বপ্নের ঠিকানা বলা হয়। বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা আকরাম-উজ-জামান চাকুরি জীবনে তো নয়ই, অবসর গ্রহণের ১৫ বছর পর, আর উএঋও-এর সিনিয়র কর্মকর্তা মোবাশ্বের আহমদ চাকরিকাল ৩০ বছর পূরণ করার পর, ডিওএইচএস সাভারে স্বপ্নের ঠিকানা গড়ার সুযোগ পান। ৪১ নং প্লট, ২নং রোড, ডিওএইচএস সাভারে প্লট বরাদ্দ লাভের আগে মহাখালী ডিওএইচএস, বারিধারা ডিওএইএস, মিরপুর ডিওএইচএসে তারা চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আজ সাভারে তাদের প্লটের উপর ৯-তলা ভবন দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটি নির্মিত হওয়ার আগেই মুক্তিযোদ্ধা আকরাম-উজ-জামান দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন ।
জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি মোবাশ্বের আহমদ বার্ণিক তার স্বপ্নের ঠিকানায় ৯-তলা ভবনের দোতালা একটি ফ্ল্যাট রেখেছেন। মুক্তিযোদ্ধা আকরাম-উজ-জামানের দোতালায় আর একটি ফ্ল্যাট। তার ইন্তেকাল হেতু উত্তরাধিকারী হিসেবে আছেন শাহানা আখতার জোয়ার্দ্দার (স্ত্রী), আবিরা আকরাম (মেয়ে), সাবিরা সিদ্দিক বীথি (কন্যা)। মরহুম আকরাম-উজ-জামানের জামাতা মেজর জেনারেল আবু বকর সিদ্দিক খান, মাস্টার জেনারেল অব দ্য ওর্ডন্যান্স, বাংলাদেশ আর্মি, সেনাসদর, সংগত কারণেই একই আবাসনের সদস্য।
মেজর জেনারেল আবু বকর সিদ্দিক খান ভবনটির নাম রেখেছেন নীলিমা। হোমস-৭১ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তাই ভবনের নাম হয় নীলিমা-৭১। নীলিমা মানে নীল রংয়ের আভা। নীল আকাশের নিচে নীলাভ পরিবেশ। কারণ, নীল আকাশে সবুজ ঘাসে বেষ্টিত এক সুন্দর পরিবেশ এখানে বিরাজমান। ভবনটি নির্মাণে পরিকল্পনারীদের পরিকল্পনা তো আছে-ই, তার সাথে যুক্ত হয়েছে, মেজর জেনারেল আবু বকর সিদ্দিক খানের মানসিক সৌন্দর্যের নীলিমা অনিল অনুভূতির প্রকাশ। নীলিমা-৭১ ভবনটি জেনারেল সিদ্দিকেরই পরিকল্পিত একটি অবকাঠামো বললে অত্যুক্তি হয় না।
সাভার ডিওএইচএস উদীয়মান এক মনোরম পরিবেশ। এক পাশে সাভার সেনানিবাস, এক পাশে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, একপাশে ইপিজেড। ঢাকা থেকে সাভার পর্যন্ত আর এমন কোন অভিজাত এলাকা গড়ে ওঠেনি। এখানে স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠ, লেক, মসজিদ ও সিএসডি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান আর চলাচলের সুশৃংখল ব্যবস্থা দেখে, অনেকে আকৃষ্ট হয়ে ফ্ল্যাট কিনে স্বপ্নের ঠিকানা গড়ে তুলছেন।
সাভার ডিওএইচএস এলাকায় যে নৈসর্গিক নৈকষ্য পরিবেশ ফুটে উঠেছে, তা দেখলে মনে হয়, যেনো নীলকমলে নীলিমা-৭১ ভবনটি নীলকান্তমণির মতো দাঁড়িয়ে আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়, ‘প্রান্ত হতে নীলাভ্রের সর্বপ্রান্ত তীর।’ আর সেই দৃশ্য যদি কাউকে মোহিত না করে, তবে তার মন যেনো কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘নীলাভ তোমার আঁখি হয়েছিলো ম্লান হয়ত বা অকারণে।’ নীলিমা-৭১, ভবনের সৌন্দর্যে অদৃষ্ট হয়ে সেখানে যারা ইতোমধ্যে গর্বিত ফ্ল্যাটের স্বত্বাধীকারী হয়েছেন, তাদের মধ্যে আছেন জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জহিরুল ইসলাম সাফিন, নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, অব্দুল হান্নান, নাসিমা আক্তার, হাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম রিপন।
কেউ কেউ নীলিমা-৭১ এর সামনের ২ নং রোডকে ড়ঁঃ ড়ভ ঃযব নষঁব (নীল আকাশের বাইরে) বলতে শুরু করেছেন। আবার যারা ডিওএইচএস সাভারে গর্বিত প্লট বা ফ্ল্যাটের মালিক হননি, তারাও এখানে আসলে মনে করেন, আমরা যেন ড়ঁঃ ড়ভ ঃযব নষঁব বা নীল আকাশের বাইরে। অন্য কথায় আশা-নিরশার দ্বন্দ্বে বিক্ষত মানুষ পরিস্কার নীল আকাশকেই সাভার ডিওএইচএস এসে খুঁজে পান, আর পরিতৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
